মঙ্গলবার | এপ্রিল ২১, ২০২০ | ৭ বৈশাখ ১৪২৭

সম্পাদকীয়

পর্যাবেক্ষণ

গৃহবন্দি না অর্থনীতি কোনটি চাই?

ড. এ. কে. এনামুল হক

করোনায় অর্থনীতি বিকল। সরকার এরই মধ্যে প্রণোদনার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। গত লেখায়ও লিখেছি, বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করে এগোনো উচিত। সিদ্ধান্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে গ্রহণ না করলে ফল ভালো না হয়ে খারাপ হবে। গত সংখ্যায় মনে করিয়ে দিয়েছিলাম ১৯৭৪ সালের কথা, কিন্তু বেশি বলিনি, কারণ অনেকে তা রাজনৈতিকভাবে নেবেন। নববর্ষের দিনে আইএমএফ বলেছে দুর্ভিক্ষের কথা। দুর্ভিক্ষ সম্পর্কে খুব বেশি দেশের অভিজ্ঞতা নেই। আফ্রিকার কিছু দেশ আর বাংলাদেশ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এবারের অবস্থা আরো করুণ হতে পারে। তাই যত কথা।

দুর্ভিক্ষ সাধারণত আসে গুটি কয়েক দেশে, যাদের প্রাকৃতিক কারণে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়। এবার? এবার প্রায় সব দেশই দুর্যোগে আক্রান্ত। আমার জানা কয়েকটি ঘটনা বলি।

এক. পরিচিত এক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে একজন মারা গিয়েছেন করোনায়। তার স্বামী, কন্যা, জামাতা এমনকি নাতি-নাতনি পর্যন্ত করোনা পজিটিভ। মরদেহ সত্কারে গোটা অ্যাপার্টমেন্টের প্রায় অর্ধশত বা তারও বেশি পরিবারের কেউ আসেনি। স্থানীয় মসজিদের ইমাম আসেননি। সরকারি ব্যবস্থায় তার দাফনের ব্যবস্থা হয়েছে। অতঃপর অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারী অনেক পরিবার বলেছে, বাকিরাও যেন ভবন ছেড়ে চলে যান। সাহায্য তো নয়ই, বরং নিজের ঘরে থাকার অধিকারও যেন তাদের নেই।

দুই. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের স্ত্রী বহুদিন ধরে দুরারোগ্য রোগে ভুগছিলেন। তার স্ত্রী এই ডামাডোলের মাঝে গত হয়েছেন। তার মৃত্যু করোনায় হয়নি। তিনি বা তার মেয়েরা কাউকে পাননি মরদেহ সত্কারের জন্য। ইউটিউব দেখে মেয়েরা মায়ের গোসল করিয়েছেন। কেউ বিশ্বাস করেনি যে তিনি করোনায় মারা জাননি। পরে গ্রামের বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিন. চট্টগ্রামে এক পরিবারে স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। তার বড় বোন দুলাভাই এসেছেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে। বাড়িওয়ালা নাখোশ। কেন বাইরের লোকজন এখন ভবনে এল? তার সাফ কথা। তাদের বিদায় করুন, নচেৎ বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

চার. ত্রাণের ট্রাক যাচ্ছিল। জামালপুরের অদূরে একদল মানুষ ট্রাক থামিয়ে লুট করে নেয়। কারণ তাদেরও ঘরে খাবার নেই। তারা ত্রাণ পায়নি, অন্যেরা কেন পাবে? আবার এরই মাঝে ত্রাণের চাল চুরি হচ্ছে। ধরাও পড়ছে। তবে আমরা জানি, সবাই ধরা পড়বে না। ধরা পড়ার ঘটনা শুধু জানান দেয় যে চোর চারদিকে।

এই যখন অবস্থা তখন সরকারের উচিত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা। গায়ের জোরে বা মুখের জোরে নয়। ধরনের ঘটনা আরো ঘটবে। ঘটনার সংখ্যা নিষ্ঠুরতাও বেড়ে যাবে। এর মধ্যে চলছে টাকা ওড়ানোর খেলা। অর্থনীতির তাত্ত্বিক কোনো জ্ঞান না থাকলে টাকা ওড়ানো সহজ। বিষয়গুলোর কিছু দিক পরিষ্কার করার জন্যই আজ লিখছি।

প্রথমত, অর্থনীতির চাকা স্তব্ধ। উৎপাদন ব্যবস্থার চাবিকাঠি হলো যাতায়াত পরিবহন ব্যবস্থা। উৎপাদন করতে প্রয়োজন উপকরণ এবং সেই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থা। আমার খামারে মুরগি আছে কিন্তু আমি মুরগির খাবার আনতে পারব না। উৎপাদন হবে না। আমার মুরগি আছে কিন্তু আমি বাজারে পাঠাতে পারব না, উৎপাদন নিরর্থক। আমার খামারে মাছ আছে কিন্তু মাছ ঢাকায় পাঠাতে পারব না, কারণ পরিবহন বিতরণ ব্যবস্থা বন্ধ। কী করব আমি মাছ নিয়ে? গোয়ালার দুধের অবস্থা, কৃষকের সবজিসবগুলোতেই একই অবস্থা। গ্রামগঞ্জে, হাটবাজারে হাজার হাজার আড়ত, পাইকার, পরিবহন ব্যবস্থাসব মিলিয়ে তৈরি হয় বাজার ব্যবস্থা। দুটো বাজার রয়েছে এখানে। একটি উপকরণের বাজার। অন্যটি পণ্যের বাজার। আমার জমিতে ধান কাটার অপেক্ষায় আছে। প্রয়োজন শ্রমিকের। কিন্তু এক জেলার শ্রমিক অন্য জেলায় যেতে পারবেন না বা গেলেও কোথাও থাকতে পারবেন না! শ্রমবাজার অচল। আমার ধান কাটা হবে না। আপনাদের কি মনে হয় যে ধান কাটার পর্যাপ্ত শ্রমিক প্রতিটি গ্রামে আছে? নিশ্চয়ই না। কৃষিকাজ সময়ের সঙ্গে বসে রয় না। সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড় কথাটা এজন্যই এসেছে। সময়মতো ধান না কাটলে, সময়মতো দুধ বাজারে না নিতে পারলে, সময়মতো মুরগির খাবার কিনতে না পারলে, সময়মতো পেঁপে না বেচতে পারলে কী হবে তা যেন আমরা ভুলেই গেছি।

দ্বিতীয়ত, করোনার প্রকোপ সহজে যাবে না। তাই দেখবেন বিশ্বের প্রায় প্রতিটি সরকার চেষ্টা করছে কত তাড়াতাড়ি অর্থনীতির চাকা খোলা যায় তার ব্যবস্থা করতে। যতদিন পর্যন্ত তা না হয় ততদিন সবাই গ্রহণ করেছে প্রণোদনা ব্যবস্থা। অনেকেই ভুল করছেন প্রণোদনাকে উৎপাদন ব্যবস্থা সচল করার ব্যবস্থা বলে। প্রণোদনায় অর্থনীতি সচল হবে না। প্রণোদনায় উৎপাদন ব্যবস্থা চালু হবে না। তাহলে কেন প্রণোদনা? প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে উৎপাদন সচল করার জন্য নয়, দেয়া হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষকে ন্যূনতম আয়ের বন্দোবস্ত করতে। তা না হলে সে না খেয়ে মরবে। প্রণোদনা কেন শিল্পপতি পাবেন? আমার বোধগম্য নয়। তবে তার যদি কোনো ঋণ থেকে থাকে এবং সময়ে তিনি যদি পরিশোধ করতে না পারেন, তবে তার দায়ভার কমাতে প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে। নতুন করে ঋণ নিয়ে তিনি এখন কী করবেন? সরকারি নির্দেশে যদি কারখানা বন্ধ হয়, তবে তিনি কেন ঋণের দায় বহন করবেন? তাই তিনি কিছু প্রণোদনা পাবেন। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এজন্য তাকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হবে। মোটেই তা হতে পারে না। তাহলে কুঋণের পরিমাণ বাড়বে। প্রণোদনার টাকায় কুয়ালালামপুর, দুবাই, লন্ডন, নিউইয়র্ক বা টরন্টোতে বাড়ি হবে। অন্যদিকে নাজুক ব্যাংক ব্যবস্থা ধসে পড়বে।

তৃতীয়ত, কতদিন পর আমরা ফিরে পাব সুস্থ জীবন। চীনের অভিজ্ঞতা বলে চার মাস। ডব্লিউএইচও বলছে, যতদিন পর্যন্ত টিকা আবিষ্কার হবে না, ততদিন পর্যন্ত স্বাভাবিক হবে না। সেই অর্থে ২০২২ পর্যন্ত করোনা আসবে-যাবে। ততদিন পর্যন্ত কি অপেক্ষা করা যাবে? নিশ্চয়ই নয়। টিকা আবিষ্কারের জন্য এখন সবাই মরিয়া। এমন লাভজনক ব্যবসা আর কখনো আসবে কিনা সন্দেহ। পৃথিবীর ৭০০ কোটি লোককে টিকা দিতে হবে। যে কোম্পানি আগে টিকা বের করবে সে- জিতবে। জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স সবাই নানাভাবে জানান দিচ্ছে যে টিকা আসছে। এরই মধ্যে চীন একটি টিকা আবিষ্কার করেছে বলে দাবি করেছে। জার্মানি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও করেছে। বুঝতেই পারছেন যে বিলিয়ন ডলার ব্যবসায় সবার নজর আছে। ভারতও পিছিয়ে নেই। অবস্থায় টিকা আবিষ্কার হলেই যে বাংলাদেশের সবাই পাবে তা হবে না। তাই আমাদের ভাবতে হবে কী করা যায়। আমাদের বিকল্প ভাবতে হবে। স্পেন এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু কার্যক্রম চালু করেছে। সুইডেন তাদের অর্থনীতির চাকা বন্ধ করতে রাজি হয়নি। সবাইকে বলেছে মুখোশ পরে বাইরে যেতে।

আমাদের অবস্থাটা একটু ভাবুন। ভালো মৌসুমে আমাদের বোরো ধানের উৎপাদন ১৯০ লাখ টন। এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে মে মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে সব হাওড়াঞ্চলের ধান না কাটলে তা পানিতে তলিয়ে যাবে। মে মাসের মধ্যে সারা দেশের সব ধান কাটতে হবে। একই সময়ে আউশ ফসলের কাজ শেষ করতে হবে। বর্ষার সবজিও বুনতে হবে। কৃষি খাতে তাই প্রয়োজন শ্রমিকের। অথচ যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ (সংগত কারণেই) সময়ে অর্জিত আয় কৃষি শ্রমিকদের বর্ষায় খাবারের জোগান দেবে। তারপর আসবে আমন ফসলের ধুম। জুলাই, আগস্টে আমন ধান বোনার সময়। পাটের সময়। সময়েও প্রয়োজন হবে কৃষি শ্রমিকের। অন্যান্য বছর তা চোখে পড়ে না, কারণ ঢাকার শ্রমিকদের অনেকেই সময় বাড়ি যান কাজের খোঁজে। বর্ষায় শহরাঞ্চলে রিকশাচালকসহ অনেক শ্রমিকই কমে যায় কারণে। তারপর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর হলো মঙ্গার মাস। দেশে প্রায় সাত কোটি লোক কর্মজীবী। তাদের অর্ধেককেও যদি সরকারকে ভাতার আওতায় আনতে হয়, তবে মাসিক হাজার টাকা করে দিলেও লাগবে প্রতি মাসে ১৭ হাজার কোটি টাকা, যদি হাজার টাকা করে দিতে হয় তাহলে লাগবে মাসিক হাজার কোটি টাকা। আর মাসে হাজার টাকা করে দিলে লাগবে সাড়ে হাজার কোটি টাকা। সরকারের পক্ষে কি চার মাস ভাতা দেয়া সম্ভব হবে?

বলতে পারেন, আগস্ট পর্যন্ত কি আমাদের অন্তরীণ অবস্থা থাকবে? চীনে ডিসেম্বর থেকে শুরু করে এপ্রিল পর্যন্ত সবকিছু বন্ধ ছিল। তাদের পক্ষে যেভাবে মানুষকে গৃহ অন্তরীণ আইন মানতে বাধ্য করা সম্ভব হয়েছিল, আমাদের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না বা করা সম্ভব হবে না। আমরা ভিন্ন সমাজে বাস করি। আমরা চীনা জাতি নই। আমরা এরই মধ্যে বিরক্ত। গরিবদের পক্ষে ঘরে বসে থাকা সম্ভব নয়। তাদের ঘর বলে যা আছে তা ঘর নয়। আমরাও ঘর বলি না, বলি ছাপড়া। তাদের ২০ দিনেই খাবারের অভাব হয়েছে। ১০০ দিন? অসম্ভব! আমাদের সামাজিক চেতনায় ঘুণ ধরেছে। আমরা নিজেদের নিয়েই ভাবি অথচ খোদ যুক্তরাষ্ট্রে যে সমাজ ব্যক্তিকেন্দ্রিক, সেখানে শুধু নিউইয়র্কেই এসেছে ৮৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবী অন্য রাজ্য থেকে। আমাদের ত্রাণদাতারা এখনই ত্রাণ চুরিতে ব্যস্ত। যেন তারা ভাবছেন আগামীতে আরো দুর্দিন আসছে। আমারও চাল লাগবে বা চালের দাম বাড়লে ভালো ব্যবসা হবে!

কৃষি ক্ষেত্রে সরকারের দেয়া প্রণোদনা বাস্তবায়ন অসম্ভব। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কি দেশে হাজার হাজার ট্রাক্টর দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হবে? কে কিনবে? সরকার? বেশি দূর যেতে হবে না, গুটি কয়েক হাসপাতালে সরকারি খরচে যেসব ভেন্টিলেটর কেনা হয়েছিল, তা চালু রয়েছে কিনা জানতে সরকারের সময় লেগেছে এক মাস। ওয়েবসাইটে সংখ্যা দেয়া সহজ, বাস্তব অত্যন্ত কঠিন। বছর বিশ্বের খাদ্য উৎপাদনের পূর্বাভাস এমনিতেই সুবিধের নয়।  

এরই মধ্যে সরকার ৭৫ হাজার কোটি টাকা বাজারে ঢালছে। উৎপাদনের চাকা অচল থাকলে টাকা কেবলই মূল্যস্ফীতি বাড়াবে। জিনিসপত্রের দাম বাড়াবে। আর সেই সঙ্গে প্রণোদনা গ্রহণের হাতের সংখ্যাও বাড়বে। এর মধ্যে মাত্র হাজার কোটি টাকা রয়েছে কৃষি খাতে, যার সিংহভাগ যাবে সার উৎপাদনে সরকারের ভর্তুকি হিসেবে। কেবল ঋণগ্রস্ত কৃষকরা পাবেন ঋণগ্রহণের সুবিধা। বাংলাদেশে হাজার হাজার একর জমির মালিক এক শিল্পপতি এনজিওগুলো। কিসের বিনিময়ে প্রকৃত কৃষক ঋণ পাবেন? কৃষিকে বাঁচাতে হলে প্রয়োজন বাজার ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা। শ্রমিক বাদে অন্যরা প্রণোদনা পাবেন উৎপাদন চালু করার জন্য। তবে এখন নয়। তারও প্রয়োজন হবে আগামীতে। মুহূর্তে কেবল কর্মহীনরা পাবেন মাসোহারা, ব্যবস্থাই করা উচিত।

আমাদের বিপদ দুদিকেই। বাজার স্বাভাবিক করা হলে করোনার আক্রমণ কঠোর হবে। আবার তাই বলে ঘরে বসে থাকলে লাখ লাখ পরিবার না খেয়ে মারা যাবে আর আমরা বিত্তবানরা বেঁচে যাব। যেমন করে বেঁচেছি ১৯৭৪ সালে। মার্চের শেষেই লিখেছিলাম যে করোনা আমাদের বদলে দেবে। আমাদের ভাবতে হবে কী করে আমরা অর্থনীতির চাকা সচল করতে পারি এবং করোনা থেকে বাঁচতে পারি। দুটোই প্রয়োজন। অনেক দেশ তাই মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। অনেকে জনঘনত্ব কমিয়েছে। পাশাপাশি দুজনকে দাঁড়াতে বা বসতে দিচ্ছে না। এক মিটার দূরত্ব আমাদের দেশে কেমন করে যেন ছয় ফুট হয়ে গেছে! কোন হিসাবে তা বুঝতে পারলাম না! জনঘনত্ব কমাতে হলে বাসে সিটের সংখ্যা অর্ধেক বা আরো কমাতে হবে। দোকানের আকার বড় করতে হবে। ক্লাসে বর্তমানের অর্ধেক ছাত্র ভর্তি করতে হবে। স্কুলের সংখ্যা বাড়াতে হবে নচেৎ ফ্লিপড ক্লাসরুম চালু করতে হবে। সবাইকে করোনা ফ্রি কিউআর কোডের আওতায় আনতে হবে (যা চীন করেছে) আমাদের শিল্প-কারখানায় শ্রমিকের সংখ্যা কমাতে হবে। এসব ব্যবস্থা চালু করার নীতি যত তাড়াতাড়ি করা হবে ততই আমাদের জন্য মঙ্গল। গরিব মানুষ ঘরে থাকবে না। তাহলে তাদের না খেয়ে মরতে হবে। আর তারা ঘর থেকে বের হলে ধনীদের করোনায় মৃত্যু হবে। উৎপাদন ব্যবস্থা চালু না করে হাজার হাজার কোটি টাকার আয়োজন কেবল অবস্থাকে আরো নাজুক করবে। বুঝতে হবে আমরা কিনসীয় মন্দায় ভুগছি না। আমরা ভুগছি প্রাকৃতিক দুর্যোগে। চাহিদার সংকোচন অবস্থার সৃষ্টি করেনি। করেছে উৎপাদনের স্থবিরতা এবং তা থেকে সৃষ্ট আয়হীনতা। কেবল আয় বৃদ্ধি তাই সমাধান হবে না। উৎপাদনের চাকাও তাড়াতাড়ি সচল করা উচিত। আমাদের হাতে সময় কম। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তার কাজ করবে কিন্তু অন্য মন্ত্রণালয়গুলোকে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। আমরা এরই মধ্যে জানি কারা করোনায় সংবেদনশীল। তাদের গৃহাভ্যন্তরে রেখে দূরত্ব বজায় রেখে ধীরে ধীরে অর্থনীতির চাকা চালু করাই হবে উত্তম ব্যবস্থা।

 

. . কে. এনামুল হক: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়; পরিচালক, এশিয়ান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন